আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ লক্ষ্যে আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের অঙ্গীকার করেছে সরকার। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।’ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা আবার চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন তাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ব্যবস্থাটি আবার কার্যকর করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন কোন ধরনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গেছে। নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রশ্নে নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর করতে আইনসভার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার সেই পথেই এগোতে চায়। তবে সংবিধান সংশোধনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিস্তারিত কাঠামো কিংবা বাস্তবায়নের ধাপ সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন—এমন আলোচনা শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে কয়েক দফায় আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারেই সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার সত্যতা বা দেশে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দেননি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতেও ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষ থেকে এ ধরনের অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, পলাতক শক্তির কোনো অপতৎপরতা সরকার মেনে নেবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার সতর্ক রয়েছে। তবে সম্ভাব্য অপতৎপরতার ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং সেগুলো প্রতিরোধে নেওয়া নির্দিষ্ট আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক পদক্ষেপ সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন—এই তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ কবে নেওয়া হবে এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে।