মানিকগঞ্জে সরকারি সেবার জন্য ব্যবহৃত একটি অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন বসতি এলাকার ফরিদ মোহাম্মদ সৈকত (৪৭), পশ্চিম সেওতা এলাকার খন্দকার আতিকুর রহমান ওরফে রুবেল (৪০) এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক রেজাউল করিম খান ওরফে মিলন (৪১)। রেজাউলের বাড়ি জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা কলাহাটী গ্রামে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মানিকগঞ্জের বেউথা মোড় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ফরিদ মোহাম্মদ সৈকত ও খন্দকার আতিকুর রহমানের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সচালক রেজাউল করিম খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটিও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, এর গন্তব্য এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবি আরও জানায়, রেজাউল করিম ২০১৩ সালের মে মাস থেকে চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। হাসপাতালের চারটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি তিনি চালাতেন। ফলে সরকারি যানবাহনটি কীভাবে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হলো, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ফরিদ মোহাম্মদ সৈকতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আতিকুর রহমান তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহন করে আসছিলেন—এমন অভিযোগও করেছে ডিবি। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার পর সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত জরুরি রোগী পরিবহন ও চিকিৎসাসেবার কাজে ব্যবহৃত এসব যানবাহন হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ফলে এর অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থাও আলোচনায় আসে।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ডিবি পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সচালক রেজাউল করিমকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছে।
ডিবির পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো জানান, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মাদক পরিবহনে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের অভিযোগটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং মাদক পরিবহনের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।