মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে ভারতীয় একটি চোরাকারবারি দলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় বলাই নমশূদ্র (৩২) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবি। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি গুলি ও ৫০০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, বড়লেখার কুমারশাইল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে একটি চোরাকারবারি দল বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। দলটির সদস্যরা মাদক ও অবৈধ অস্ত্র বহন করছে বলেও তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল রাতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়।
অভিযানের একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা অন্ধকারের মধ্যে কয়েকজনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখতে পান। তাদের থামতে বলা হলে চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এতে সীমান্ত এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিজিবির সদস্যদের পাল্টা গুলির পর চোরাকারবারি দলের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে বলাই নমশূদ্রকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পলাতকদের শনাক্ত ও আটকের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
আটক বলাই নমশূদ্র ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ থানার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের জিতেন্দ্র নমশূদ্রের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে বিজিবি ধারণা করছে, তিনি সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পিস্তল, গুলি ও ইয়াবা সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, তিন থেকে চারজনের একটি দল অন্ধকারের মধ্যে কুমারশাইল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। বিজিবি তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা গুলি চালায়। জবাবে বিজিবিও গুলি চালায়। একপর্যায়ে দলটির সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে একজনকে আটক করা হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকের পর বলাইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রাতেই তাঁকে বড়লেখা থানায় হস্তান্তর করা হয়। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাও পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিক আটকের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার পর ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে। কুমারশাইল সীমান্তের এই ঘটনায় একজন আটক হলেও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যাওয়ায় চোরাচালান চক্রের মূল হোতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজিবি জানিয়েছে, পলাতক ব্যক্তিদের পরিচয় ও চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বের করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।