• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন

ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ৩৭০ শিশুর করুণ শৈশব

newsline24 / ৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ৩৭০ শিশুর করুণ শৈশব
ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ৩৭০ শিশুর করুণ শৈশব

ইসরাইলি কারাগার ও হেফাজতকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৩৭০ জন ফিলিস্তিনি শিশু আটক রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দী অধিকারকেন্দ্র। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ফিলিস্তিনি শিশুদের আটক করার ঘটনা এখন নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযানের অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শুরু পর্যন্ত ইসরাইলের হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দী ও আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৯ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৭০ জন শিশু। এসব শিশুর অনেককে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের সময় আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ফিলিস্তিনি বন্দী অধিকারকেন্দ্র বলছে, শিশুদের আটকের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো পরিস্থিতি নয়। বরং সাম্প্রতিক সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পরিচালিত গ্রেপ্তার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় শিশুদেরও আটক করা হচ্ছে। এতে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং তাদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ইসরাইলি বাহিনী ২৭৬ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। অর্থাৎ বছরের অর্ধেক সময়েই কয়েক শ শিশু ইসরাইলি হেফাজতে গেছে। আগস্টের শুরুতে প্রায় ৩৭০ শিশু আটক থাকার তথ্য সেই পরিস্থিতির ব্যাপকতাও তুলে ধরে।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে ইসরাইলের প্রশাসনিক আটকের ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রাখা সম্ভব এবং নির্দিষ্ট সময় পর সেই আটকাদেশ নবায়ন করা যায়। ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতির সমালোচনা করে আসছেন।

শিশুদের ক্ষেত্রে এমন আটকপ্রক্রিয়া আরও উদ্বেগজনক বলে মনে করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। কারণ, বিচারিক প্রক্রিয়া ও অভিযোগের স্বচ্ছতা না থাকলে আটক ব্যক্তির পরিবারের পক্ষে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে। শিশুদের আটক ও তাদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং শিশু অধিকার সুরক্ষার নীতিমালা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইসরাইলি হেফাজতে থাকা বন্দীদের জীবনযাপন নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের অনেকেই কঠোর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন এবং পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতির অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আটক শিশুদের নির্দিষ্ট সংখ্যা, তাদের বয়স, আটকের কারণ এবং প্রত্যেকের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গ্রেপ্তার ও আটকের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনিক আটক, বিচারপ্রক্রিয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মানবিক অবস্থার প্রশ্ন। নতুন প্রতিবেদনে শিশুদের সংখ্যা সামনে আসায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশুর ইসরাইলি হেফাজতে থাকার তথ্য একই সঙ্গে সংঘাতের মানবিক মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। যেসব শিশু কারাগার বা আটককেন্দ্রে রয়েছে, তাদের বয়স, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো আটকপ্রক্রিয়ায় তাদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category