শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি মামলার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
মামলাটি ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য তারিখে দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন সময় নির্ধারণ করেন। মামলার তদন্তে শেয়ারবাজারে লেনদেন, সংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজামকে।
দুদকের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১২০(বি) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও হিসাবে ধারাবাহিক লেনদেন, সক্রিয় ট্রেডিং, জুয়া ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে বাজারে কারসাজি করেছেন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের মামলার নথিতে আরও বলা হয়, এ প্রক্রিয়ায় মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থকে মামলায় ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের আরেক অংশে আবুল খায়ের (হিরু) ও তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের বিরুদ্ধে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আবুল খায়েরের নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আবুল খায়েরের মাধ্যমে কারসাজির অভিযোগ ওঠা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী পেপারসের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেছিলেন। ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজার কারসাজিতে সহায়তা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর নামে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো মামলার অভিযোগ ও তদন্তের অংশ; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের দোষী বলা যাবে না। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার অবস্থান এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম আরও স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন মামলাটি করেন। শেয়ারবাজারে লেনদেনের ধরন, অর্থের উৎস ও স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা—এসব বিষয়ই মামলার তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।