রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির আহমেদ লিটনকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, সাভারে ছাত্র হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল মিরপুর থানাধীন পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিটনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির আল আহসান। গ্রেপ্তার নাসির আহমেদ লিটন সাভার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হোসেন আলীর ছেলে। তিনি সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় লিটনের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। মামলার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালে ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক থাকায় লিটনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তারে নজরদারি চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিরপুরের পাইকপাড়ায় তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর সাভার মডেল থানা পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার এক দফা আন্দোলনের সময় সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণে লিটনের সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের করা অন্তত ১০টি হত্যা মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, এসব মামলার পর লিটন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে তিনি মাঝেমধ্যে এলাকায় ফিরছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, লিটনের বিরুদ্ধে সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে। ধানমণ্ডি থানার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পাশাপাশি সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া ১০টি হত্যা মামলায়ও তার নাম রয়েছে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।