চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুতে ভোট আয়োজন শুরু হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সময়সূচি ও প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। এর আগে চলতি বছর ভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা সামনে এলেও বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় তা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের সময় নির্ধারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা, রমজান ও এসএসসি পরীক্ষার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়াও ব্রিফিংয়ে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন অফিস, দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হবে। মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদ এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে এসব সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে মোট ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ মেগাওয়াট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে। বাকি ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনই ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে। ফলে চলতি বছরের পরিবর্তে আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনাই আপাতত সামনে রয়েছে।