এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এখনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক এ দাবি জানান। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত তাদের জন্য প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আব্দুল মালেক বলেন, ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা উচিত। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। নতুন পে স্কেলের সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয় স্পষ্ট করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন। এ কারণে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও একই কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবি সামনে আসে।
বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও ব্যবস্থার আওতায় সরকারি অনুদান পান। ফলে বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি তাদের আর্থিক সুবিধা ও চাকরিসংক্রান্ত প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ অবস্থায় নতুন পে স্কেলের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও পৃথক প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা।
কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেকের বক্তব্য অনুযায়ী, ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করাই এখন প্রধান দাবি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।