লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। সোমবার ভোরে নাবাতিয়েহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যম।
নাবাতিয়েহ জেলার কাফর রেম্মান এলাকায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। মধ্যরাতের পর সেখানে একটি তিনতলা আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে একই পরিবারের সদস্যসহ দুই শিশুসহ নয়জন নিহত হন। হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাফর রেম্মানেই একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ইসলামিক রিসালা স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের দুই প্যারামেডিক নিহত হন।
ইসলামিক রিসালা স্কাউট অ্যাসোসিয়েশন লেবাননে জরুরি চিকিৎসাসেবা, উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবিলার কাজে যুক্ত একটি স্কাউট সংগঠন। হামলায় ওই সংগঠনের দুই কর্মীর মৃত্যু দক্ষিণ লেবাননের চলমান সংঘাতের মধ্যে জরুরি সেবাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর বাইরে নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও আরবসালিম এলাকাতেও একাধিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দেইর আল-জাহরানি এলাকায়ও হামলার আগে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। একটি ভবন ও এর আশপাশের কয়েকটি স্থাপনায় থাকা লোকজনকে ভবনটি থেকে অন্তত ৩০০ মিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়।
লেবাননের স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রায় ২২ মিনিট পর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভবনটিতে হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ভবনটি হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন’ করেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
লেবাননে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে মোট ৪ হাজার ৩৬২ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩৭৮ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েল লেবাননে ৫ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির একজন সামরিক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর সামরিক তৎপরতাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, হামলার ফলে বেসামরিক মানুষ, আবাসিক ভবন এবং জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের হতাহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
নাবাতিয়েহসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা ও পাল্টা উত্তেজনার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে সোমবারের হামলার পর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।