• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

স্ত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের পর আত্মসমর্পণ স্বামীর

newsline24 / ১৭ Time View
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্ত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের পর আত্মসমর্পণ স্বামীর
স্ত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের পর আত্মসমর্পণ স্বামীর

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই এক তরুণীকে হত্যার পর তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত স্বামী। ভয়াবহ এ ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত নারীর নাম রিয়া তালুকদার (২৫)। তার স্বামী রামানুজন গোস্বামী। গুয়াহাটির বেলতলা এলাকার বশিষ্ঠপুরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ওই দম্পতিকে দেখা যাচ্ছিল না। একই সঙ্গে তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে তারা রিয়ার খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহে পচন ধরেছিল। তার একটি আঙুলও অর্ধেক কাটা অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

তবে মরদেহের সঙ্গে মাথাটি পাওয়া যায়নি। পরে পুরো ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ফ্রিজের ভেতরে পলিথিনের ব্যাগে রাখা অবস্থায় রিয়ার মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে তখন তার স্বামীকে পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রামানুজনকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে ওই দম্পতির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

পুলিশ মরদেহ ও উদ্ধার হওয়া মাথা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ঘটনার পর রামানুজনের সন্ধানে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে রোববার রাতেই তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

পুলিশ খতিয়ে দেখছে, হত্যাকাণ্ডটি ঠিক কখন ঘটেছে এবং তার আগে-পরে ওই অ্যাপার্টমেন্টে কী ঘটেছিল। পাশাপাশি মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার সঙ্গে অভিযুক্তের ভূমিকা এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা ঘটনার পুরো চিত্র সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরই এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

ঘটনাটি ঘিরে বশিষ্ঠপুর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অল্প সময় আগে বিয়ে করা ওই দম্পতির ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটেছিল, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category