দেশে তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি সংসদে আলোচনায় আসে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে তার প্রতিফলন না থাকায় অসন্তোষ জানান ডেপুটি স্পিকার।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনার সময় তিনি এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। অধিবেশনের একপর্যায়ে স্পিকারের আসনে বসেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে উত্থাপিত নোটিশের ওপর আলোচনা হয়।
আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বক্তব্য দেন।
আলোচনা শেষে বিদ্যুৎমন্ত্রীর উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সাবমিসিভ ওয়েতে বিষয়টি একনলেজ করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন, আনফরচুনেটলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বিষয়টিকে সেভাবে এড্রেস করেন না। প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন, আর মাননীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেছে।’
তিনি বলেন, দেশের সংকটের প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিষয়টি যথাযথভাবে মোকাবিলা ও ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত নোটিশে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির ফলে শহর ও গ্রাম—দুই এলাকাতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে শত শত শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হচ্ছেন এবং সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় সংসদে অবিলম্বে আলোচনা করার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা। গত ২৭ আগস্ট তিনি নোটিশটি দেন। এতে তার সঙ্গে আরও পাঁচজন সংসদ সদস্য যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।
সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব, সরকারের পদক্ষেপ এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্যের বিষয়টি সামনে আসে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতের ওপর বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির প্রভাব নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।