নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ বাড়ির গলিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫০) নামে এক স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার কাছে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা ও দোকানের হিসাব-নিকাশের খাতাপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের দুলালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত সোয়া ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অলিফ চন্দ্র দত্তের মৃত্যু হয়।
নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত শুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি মহাদেবপুর বাজারে ‘দত্ত জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণালংকারের দোকান পরিচালনা করতেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় দোকানের কার্যক্রম শেষ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন অলিফ। বাড়ির কাছাকাছি গলিতে পৌঁছানোর পর পেছন থেকে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। হামলাকারীরা তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অলিফের ছোট ভাই প্রশান্ত চন্দ্র জানান, তার আরেক ভাই আহত অবস্থায় অলিফকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। পরে স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার মধ্যেই রাত সোয়া ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পাশাপাশি শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে অলিফকে আক্রমণ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রাজশাহী রাজপাড়া থানা পুলিশ নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।