রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ককটেলসদৃশ বস্তু, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ এবং ডেমরার পাড়া ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, ধলপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও গোলাগুলির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই ঘটনায় এর আগে ডোবা মিঠু নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফলে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
অভিযানের সময় উদ্ধার করা ককটেলসদৃশ বস্তুগুলো নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে পুলিশ। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেন। একই অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। এসব অস্ত্র কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত রোববার রাতে যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের বাদল সরদার গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইমরান হোসেন নামে এক যুবক নিহত হন। ওই ঘটনায় জাকারিয়া নামে আরও এক যুবক আহত হন। গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও ডেমরার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো বিরোধ বা পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং গোলাগুলিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এসব বিষয় পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।