জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শ্রমিক দলের কর্মী মো. রিয়াজুল তালুকদারকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৬ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক নজীব আহমেদ গত ১৯ আগস্ট আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
মামলাটির চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। ওই শুনানিতে আদালত পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রাণিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজল, সাবেক এমপি ইকবাল হোসেন অপু ও নাহিম রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন।
মামলার এজাহার ও অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার চার রাস্তার মোড়ে এক দফা দাবির আন্দোলনের সমর্থনে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা মিছিল করছিলেন। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে রিয়াজুল তালুকদার গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে মারা যান।
পুলিশের করা চার্জশিটে ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পলাতক ১৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করেছেন।
রিয়াজুল তালুকদারকে হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন তার ভাই রুবেল তালুকদার। মামলায় আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুলিবর্ষণ ও রিয়াজুলের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ আনা হয়।
চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তপর্বে পুলিশের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। এখন আদালতে চার্জশিট গ্রহণ এবং আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।