নড়াইল সদর উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রকে ধর্ষণের মামলায় মেরাজ আলী (২৪) নামে এক শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার সংশ্লিষ্টরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মেরাজ আলী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার কালিয়া বাকরী এলাকার আমানুল্লাহ হকের ছেলে। ঘটনার সময় তিনি নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া তাইছিরুল উলুম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ ও ১১ জুলাই মাদরাসাটির একটি কক্ষে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন মেরাজ আলী। ঘটনার পর বিষয়টি তার মা-বাবাকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
তবে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে শিশুটি পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে ১২ জুলাই স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিবুর রহমান আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলায় মেরাজ আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই সাজা দিয়েছেন।
শিশুদের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের আচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এমন ঘটনায় নতুন করে সামনে আসে। বিশেষ করে আবাসিক বা মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।