ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় অনুশীলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক নারী ফুটবলারকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ইজিবাইকচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাহমুদুল ইসলাম (৩২) নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের মো. শামছুল হকের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, মাহমুদুল পেশায় ইজিবাইকচালক।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার মাহমুদুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরী ফুটবলারের বড় ভাই বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
ভুক্তভোগী নারী ফুটবলার ও তাঁর কোচের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর নান্দাইল পৌরসভার চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুশীলন শেষে সন্ধ্যার দিকে ইজিবাইকে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন ওই ফুটবলার। যাত্রাপথে ইজিবাইকে থাকা অন্য যাত্রীরা একে একে নেমে যাওয়ার পর তিনি একা হয়ে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সুযোগে ইজিবাইকচালক মাহমুদুল তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ফুটবলারের সঙ্গে চালকের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে রক্ষা করে ইজিবাইক থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে ওই ফুটবলার অভিযুক্ত চালককে খুঁজছিলেন বলে তাঁর কোচ জানিয়েছেন। পরে ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অনুশীলন শেষে বাড়ি ফেরার সময় ঘটে যায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ইজিবাইক স্ট্যান্ডের দিকে যাওয়ার পথে কয়েকজন সতীর্থ ফুটবলারের সঙ্গে ছিলেন তিনি। এ সময় খেলার মাঠের কাছাকাছি মাহমুদুলকে দেখতে পান ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারী ফুটবলার তখন সতীর্থদের সহায়তায় মাহমুদুলকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নান্দাইল মডেল থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোজাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাহমুদুলকে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলাটি এখন তদন্তাধীন। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নারী খেলোয়াড়দের অনুশীলন শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়টিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিবহনকর্মী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত পরিবার, কোচ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর গুরুত্ব রয়েছে।