বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের ১০০ জন শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে অনুদান ও সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা আরও উৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে শিক্ষকরাই অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মাঠপর্যায়ে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা শিক্ষকদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের পুরস্কৃত করে অন্য শিক্ষকদেরও অনুপ্রাণিত করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করে তাঁদের সম্মানিত করা হবে। এ জন্য সেরা শিক্ষক নির্বাচন ও পুরস্কার দেওয়ার একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
সরকারের এবারের উদ্যোগে পুরস্কারের পরিধিও আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। এর আগে সেরা হিসেবে নির্বাচিত মাত্র ১২ জন শিক্ষককে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। এবার সেই কাঠামো পরিবর্তন করে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের দক্ষ ও গুণী শিক্ষকদের স্বীকৃতির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাছাই করা ১০০ জন শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে অনুদানের পাশাপাশি সম্মাননা দেওয়া হবে।
এ উদ্যোগের ফলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শিক্ষকদের স্বীকৃতির সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কারা এই সম্মাননা পাবেন, তাঁদের নির্বাচনের মানদণ্ড কী হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে—এসব বিষয় নীতিমালায় নির্ধারণ করা হবে।
শিক্ষকদের আচরণবিধি নিয়েও সভার আগে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, একজন শিক্ষকের আচরণ, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজেও প্রভাব ফেলে। তাই শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের অযাচিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের বিষয়টিও নীতিমালার আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নির্দেশিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজনকে সামনে রেখে কমিটি পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার প্রক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে।