মেহেরপুরের গাংনীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা আগে দলটির কার্যালয়ের পাশে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে গাংনী বাজারের হারুন মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ইলেকট্রনিক সার্কিটের কিছু অংশ ও বোমাসদৃশ কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের পর গাংনী বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার দুপুরের দিকে বাজারের ব্যস্ত এলাকায় হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। শব্দ শুনে আশপাশের দোকানি ও পথচারীরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখতে পান তাঁরা। পরে ঘটনাস্থলে ইলেকট্রনিক সার্কিটের কিছু অংশ এবং বোমাসদৃশ কয়েকটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির আগে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত বা কী উদ্দেশ্যে ওই বস্তু সেখানে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রোববার বিকেলে গাংনী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে বিএনপি কার্যালয়ের পাশের হারুন মার্কেট এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ কারণে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি পড়ে থাকা বিভিন্ন বস্তু উদ্ধার করে।
গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা শিমুল কুমার বিশ্বাস জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
তবে উদ্ধার হওয়া বোমাসদৃশ বস্তুগুলো আসলে বিস্ফোরক কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। একইভাবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণও তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
এদিকে ঘটনার পর বাজারের নিরাপত্তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় বিস্ফোরণের মতো ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিস্ফোরণের উৎস এবং উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃতি দ্রুত নিশ্চিত করার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।