দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সার নিয়ে কৃষকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে সার মজুদের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনীর ফুলগাজীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সার পাওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক বা উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সার সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি সরকারের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সে জন্য সময়মতো কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাষাবাদের মৌসুমে সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তার প্রভাব উৎপাদন ও কৃষকের ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।
এদিকে ফেনীতে কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, জেলার সাড়ে সাত হাজার কৃষক এই কার্ড পাবেন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীতে এসে কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
কৃষি কার্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা ও কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে কার্ডের মাধ্যমে কী কী সুবিধা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এদিনের বক্তব্যে তুলে ধরেননি মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে কৃষিমন্ত্রী ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি সমাবেশের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহবুব উল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার, কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আতিক উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকার প্রস্তুতিও গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।