বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ কর্মসূচি আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের এ ধরনের কর্মসূচি রাজপথে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে আওয়ামী লীগ নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। একই সফরে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ আবু সাঈদের কবরও পরিদর্শন করেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ চায় জামায়াত রাজপথে এমন কোনো কর্মসূচি দিক, যাতে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, রাজপথে উত্তেজনা তৈরি হলে আওয়ামী লীগ সেটিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার আলোচনা থাকায় বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লংমার্চের রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং অধিকাংশ দল এতে স্বাক্ষর করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখার সুযোগও ছিল। ফলে স্বাক্ষরিত সেই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলার মধ্যে নতুন করে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা কী—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গেও বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচির সমালোচনা করেন রাশেদ। তাঁর অভিযোগ, লংমার্চের কারণে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে, যা চলমান জ্বালানি সংকটকে আরও চাপের মধ্যে ফেলছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বরের এক বক্তব্যেও তিনি দাবি করেছিলেন, সড়ক বন্ধ রাখা ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের কারণে জনভোগান্তি বাড়ছে। তবে সেদিনের দাবিতে উল্লেখ করা জ্বালানি অপচয় ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণের স্বাধীন সরকারি হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের সমস্যা ও অব্যবস্থাপনার প্রভাব রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুটি টার্মিনাল ও ৩৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছিল। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে প্রকল্প বাতিলের এই দাবির বিস্তারিত সরকারি তথ্য বা স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য তিনি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেননি।
লংমার্চ ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, রংপুর অভিমুখী কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া নেই। তিনি জামায়াতসহ ১১ দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, তারা যদি নিজেদের প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব মনে করেন, তাহলে ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে রংপুরে এসে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
এদিকে ১১ দলীয় জোটের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখেও লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরবর্তী সময়ে খুলনা ও সিলেট অভিমুখে কর্মসূচি এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল।
রাশেদ খাঁনের বক্তব্য মূলত বিরোধী দলগুলোর লংমার্চের রাজনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি ব্যয় এবং আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে তাঁর অভিযোগ ও অবস্থানকে তুলে ধরে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলগুলোর পাল্টা বক্তব্য এই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।