মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করায় শেখ হাসিনা আর আপিলের সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি রায় ঘোষণার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তী সময়ে আর আপিল করার সুযোগ থাকে না। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে ওই ৩০ দিনের সময়সীমা ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে এখন আর আপিল করার আইনগত সুযোগ নেই।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলার রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে। আমিনুল ইসলাম জানান, যেসব আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেসব সম্পদ কী প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হবে, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করণীয় এবং আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণের বিষয়টি এ পর্যালোচনার অংশ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ‘গুম’ সংক্রান্ত আইনি বিষয় নিয়েও কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটক রাখার পরও গ্রেপ্তার দেখায় না এবং তাকে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হয় না, তাহলে অতিরিক্ত ওই সময়কে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বা সিদ্ধান্তের কোনো অসংগতি থাকবে না। গুমের অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, একদিকে ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে গুমের অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইন, আদালতের আদেশ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।