ফেনীর দাগনভূঞায় স্বামীকে জিম্মি করে তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে দাগনভূঞা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা মো. মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া চট্টগ্রাম থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে রাতে সুবর্ণচরের উদ্দেশে রওনা হন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁদের অটোরিকশাটি ফেনীর দাগনভূঞা পৌর এলাকার ফাজিলের ঘাট রোডে পৌঁছালে চার্জ শেষ হয়ে যায়।
পরে অটোরিকশাটি চার্জ দেওয়ার জন্য ‘জুয়েলের গ্যারেজে’ রাখা হয়। অভিযোগ, এ সময় একদল স্থানীয় যুবক ওই দম্পতিকে ঘিরে ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁদের জিম্মি করে জগতপুরের ফাতেমা মঞ্জিলের বিপরীতে ‘পরেশ স্টোরে’ নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে মাসুদকে বেঁধে রাখা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাঁর স্ত্রীকে পাশের আবুল কালামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজনের মুঠোফোনে রিং বেজে ওঠে। এতে সে ওই নারীর ওপর থেকে সরে দাঁড়ায়। এই সুযোগে তিনি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে জিম্মি অবস্থায় থাকা মাসুদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
মামলা দায়েরের পর এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে এজাহারভুক্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জগতপুর ভূঞা বাড়ির মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ প্রকাশ রাজ (১৯), বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯), উত্তর করিমপুরের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯), আমানউল্লাহপুরের জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (২১) এবং মো. হারুনের ছেলে শাহিন উদ্দিন মুন্না (২৯)।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।