নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশের অভিযানের সময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে পড়ে গিয়ে মো. সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ঈদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নুর নবী চৌধুরীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানার একটি দল সোহাগ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য হাজী ঈদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলতে দেখে সোহাগ পুলিশের উপস্থিতি টের পান। এরপর তিনি দ্রুত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পালানোর একপর্যায়ে সোহাগ পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। তবে ঠিক কীভাবে তিনি পড়ে আহত হয়েছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চরজব্বর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩২৩ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে দায়ের করা আরেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬, ৩৭৯, ৪২৭ ও ৩২৫ ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মামলার ধারাগুলোর মধ্যে ৩২৩ ধারায় সাধারণ আঘাত, ৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং ৩২৬ ধারায় গুরুতর অস্ত্রের মাধ্যমে আঘাতের মতো অভিযোগের বিষয় রয়েছে। তবে এসব ধারায় মামলা থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমনটি নয়; অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। পুলিশকে মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
ওসি আরও জানান, সোহাগের মরদেহ তার স্বজনরা নিয়ে গেছেন। তার মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কী ধরনের আইনগত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
পুলিশের অভিযানের সময় একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র ছাড়া ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটি হলো—গ্রেপ্তার এড়াতে দৌড়ানোর সময় পড়ে গিয়ে সোহাগ আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।