ঢাকার গুলশানে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সহকারী পরিচালক পরিচয় দিয়ে পুলিশের কাছে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করার অভিযোগে মো. সাইফ ইমরান (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে গুলশান থানা পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি মিডিয়া মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গুলশানে পাকিস্তান হাই কমিশনের পাশের একটি স্থানে সাইফ ইমরান মোটরসাইকেল পার্ক করেন। ওই এলাকায় মোটরসাইকেল পার্কিং করতে নিষেধ করা হলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে তিনি নিজেকে ডিজিএফআইয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, ডিজিএফআইয়ের গাড়িগুলো সাধারণত ওই স্থানেই পার্ক করা হয়।
প্রথমবার পরিচয় দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ হলেও একই দিন সন্ধ্যার পর সাইফ ইমরান আবারও একই স্থানে মোটরসাইকেল পার্ক করেন। এতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ আরও বাড়ে। তারা তার পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সাইফ ইমরান স্বীকার করেন, তিনি ডিজিএফআইয়ের কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য নন। পুলিশ বলছে, ভুয়া সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করার অভিযোগে তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
ডিজিএফআই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। রাজধানীর কূটনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসংলগ্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাধারণত পরিচয় ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন। গুলশানের মতো কূটনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকা এলাকায় কোনো ব্যক্তি সরকারি বা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর সাইফ ইমরানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে গুলশান থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার পর তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটিতে মূল অভিযোগ হলো—সাইফ ইমরান নিজের প্রকৃত পরিচয়ের পরিবর্তে ডিজিএফআইয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। পরে সন্দেহের ভিত্তিতে পরিচয় যাচাই করা হলে তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।