• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

ভোরের আগুনে রায়গঞ্জের নিমগাছিতে সাত দোকান পুড়ে ছাই

newsline24 / ১৩ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
ভোরের আগুনে রায়গঞ্জের নিমগাছিতে সাত দোকান পুড়ে ছাই
ভোরের আগুনে রায়গঞ্জের নিমগাছিতে সাত দোকান পুড়ে ছাই

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে লাগা এই আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে, আগুনে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে নিমগাছি বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরবেলায় বাজারে আগুনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় স্থানীয়দের চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে তাড়াশ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আগুন বাজারের অন্য দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোতে থাকা পুড়ে যাওয়া মালামাল ও সরঞ্জামের চিত্র ফুটে ওঠে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা হলেন—সোলেমান তালুকদার, হায়দার আলী, দিগেন্দ্রনাথ সরকার, সাধন কুমার সরকার, ক্ষুদিরাম সরকার, আতাউর ও আব্দুল্লাহ। তাদের দোকানে থাকা ব্যবসার মালামাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের বড় অংশই আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

তাড়াশ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন দ্রুত কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের অনেকের দীর্ঘদিনের ব্যবসার পুঁজি ও দোকানে থাকা মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। হঠাৎ এমন ক্ষতির কারণে তারা নতুন করে ব্যবসা চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তারা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর বাজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারের বৈদ্যুতিক সংযোগ, পুরোনো তার ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজারে আগুন নেভানোর প্রাথমিক সরঞ্জাম রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন তারা।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার কারণ এবং এতে মোট কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category