• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

বিয়ের পর বাড়ি ফেরার পথে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

newsline24 / ২০ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
বিয়ের পর বাড়ি ফেরার পথে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
বিয়ের পর বাড়ি ফেরার পথে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীদের মাইক্রোবাস থামিয়ে নববধূকে জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় গাড়িটিতে ভাঙচুর চালানোরও অভিযোগ করেছেন বরের স্বজনরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, নববধূর সঙ্গে অভিযুক্ত এক যুবকের আগে থেকে সম্পর্ক ছিল কি না, কিংবা কী কারণে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর নববধূকে সঙ্গে নিয়ে বর ও বরযাত্রীরা একটি মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

পথে মাইক্রোবাসটি হোসেনপুরের হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক গাড়িটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তারা মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে নববধূকে জোর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে বরের স্বজনদের অভিযোগ।

চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে মিয়াদ মিয়ার নেতৃত্বে ওই নববধূকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বরপক্ষের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, কনের পরিবারের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, মিয়াদ নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতেন। এ ঘটনায় বরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, ওই তরুণীর সঙ্গে মিয়াদ মিয়ার আগে একটি সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের সম্পর্কটি দুই পরিবারের মধ্যে মেনে নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। বিষয়টি এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। নববধূকে কী পরিস্থিতিতে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনার পর বরের পরিবার লিখিত অভিযোগ করায় বিষয়টি এখন আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তবে নববধূকে উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ বা পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

হোসেনপুর থানার ওসি জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তৈরি হওয়া উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category