• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের পানি-গোসল নিয়ে অভিযোগ, বেন-গভিরের কটাক্ষ

newsline24 / ১২ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের পানি-গোসল নিয়ে অভিযোগ, বেন-গভিরের কটাক্ষ
ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের পানি-গোসল নিয়ে অভিযোগ, বেন-গভিরের কটাক্ষ

ইসরাইলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের পানি, গোসল, পরিচ্ছন্ন পোশাক ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিওতে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে বন্দিদের অভিযোগের জবাবে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে নিজের নেওয়া কঠোর কারা-নীতির প্রশংসাও করেন তিনি।

রোববার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করেন বেন-গভির। এতে ইসরাইলের ডেমন কারাগারে আটক কয়েকজন ফিলিস্তিনি নারী বন্দির সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওতে এক নারী বন্দি কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, টানা তিন দিন তারা গোসল করতে পারেননি। পরিষ্কার পোশাকও দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই বন্দির ভাষ্য অনুযায়ী, নারী বন্দিদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। সেলে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই এবং স্বাভাবিকভাবে গোসল করার সুযোগও সীমিত। ফলে বন্দিদের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ শুনে বেন-গভির সহানুভূতি দেখাননি। বরং তিনি ইসরাইলের কারাগারগুলোতে বন্দিদের জন্য আগের তুলনায় কঠোর পরিবেশ তৈরির কথা তুলে ধরেন। নিজের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, কারাগারে ভালো পরিস্থিতির দিন শেষ এবং বর্তমান অবস্থার জন্য তিনি সরাসরি দায়ী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর দেওয়া এক পোস্টেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের অভিযোগকে কটাক্ষ করেন বেন-গভির। তিনি দাবি করেন, বন্দিদের কারাগারের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে ‘ন্যূনতম পর্যায়ে’ নিয়ে আসা হয়েছে। এই নীতি বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও জানান।

তীব্র প্রতিক্রিয়া ফিলিস্তিনি পক্ষের

ভিডিওটি প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বন্দিবিষয়ক কমিশন বেন-গভিরের আচরণকে ‘বর্বরতা, ঘৃণা ও বর্ণবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, বন্দিদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবও ভিডিওটি প্রকাশের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, নারী বন্দিদের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা তাদের ব্যক্তিগত ও মানবিক মর্যাদার ওপর আক্রমণের শামিল। বিশেষ করে আটক অবস্থায় বন্দিদের বক্তব্য ও ছবি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

এর আগেও খাবার নিয়ে কটাক্ষ

ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের নিয়ে বেন-গভিরের বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি মাসের শুরুতেও তিনি এক ফিলিস্তিনি নারী বন্দির সঙ্গে কথা বলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন।

সেই ভিডিওতে ওই নারী বন্দি কারাগারে দেওয়া খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ করেন। জবাবে বেন-গভির তাকে বলেন, খাবার ভালো হওয়ার কথা নয় এবং এটি কোনো হোটেল নয়।

এ ধরনের বক্তব্য ও ভিডিও প্রকাশের কারণে বেন-গভিরের কারা-নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের জন্য আরও কঠোর কারা-ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

বর্তমান ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগারে জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা এবং মৌলিক মানবিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নারী বন্দিদের করা অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং কারাগারে তাদের জন্য বাস্তবে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের বিষয়। তবে প্রকাশিত ভিডিওতে পানি, গোসল, পোশাক ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে বন্দিদের অভিযোগ এবং মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category