জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করবেন। আলোচিত এ মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালিত হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে দমন-পীড়ন চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের উসকানি, নির্দেশনা, ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানিয়েছেন, মামলার শুনানিতে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টেলিফোন কথোপকথনের অডিও, দালিলিক প্রমাণ এবং অন্যান্য সাক্ষ্য। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব প্রমাণে হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ কারণে প্রসিকিউশন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত, আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন দেওয়া। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় বৈঠক করে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা। তৃতীয়ত, আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে হত্যার দায়ে সংশ্লিষ্ট থাকা।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারিক কার্যক্রমের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় মামলাটি।
চার আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও আদালতের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। এ মামলাতেও নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার রায়কে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং প্রসিকিউশনের দাবির চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না এবং সে ক্ষেত্রে কী ধরনের দণ্ড দেওয়া হবে, তা রায়ের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হবে।
কুষ্টিয়ায় ছয়জনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির রায় শুধু সংশ্লিষ্ট চার আসামির বিচারিক পরিণতিই নির্ধারণ করবে না, বরং জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার বিচারপ্রক্রিয়ায়ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার জন্য ট্রাইব্যুনালের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।