বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে এলপিজির মূল্য সমন্বয় নিয়ে গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। শুনানিতে এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, পরিবেশকদের পক্ষ থেকে কমিশন তিন গুণ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিইআরসিতে জমা দেওয়া আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে কমিশন বাবদ ১৯১ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। এই কমিশন বাড়িয়ে বিভিন্ন হারে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা কমিশন নির্ধারণের আবেদন করেছে।
প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ওমেরা প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন ২৮৭ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পেট্রোম্যাক্সের প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশন বাড়বে ১৫৮ টাকা। ডেল্টা ও মেঘনা গ্রুপের প্রস্তাবেও বর্তমান হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
এদিকে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারাও কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশকদের বর্তমান কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে কমিশন তিন গুণ করার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বর্তমানে ৪৫ টাকা কমিশন পেলেও তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন।
এলপিজির চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ধারণে আমদানি ব্যয়, পরিবহন, বিপণন এবং বিক্রয় পর্যায়ের বিভিন্ন খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়। সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে কমিশন বাড়ানো হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব ভোক্তামূল্যে পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবিত কমিশন কতটা গ্রহণ করা হবে এবং তার ভিত্তিতে সিলিন্ডারের দাম কতটা পরিবর্তিত হতে পারে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এলপিজি দেশের বহু পরিবারের রান্নার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সিলিন্ডারের দাম বাড়লে তা শুধু পারিবারিক ব্যয়েই নয়, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়েও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে কমিশন বাড়ানোর পক্ষে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ের যৌক্তিকতা, সরবরাহব্যবস্থার খরচ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ বিবেচনা করে যৌক্তিকতা বজায় রেখে এলপিজির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শুনানি শেষে কমিশন প্রস্তাবগুলোর যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করবে। এরপর কমিশন ও এলপিজির মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের কতটুকু অনুমোদন দেওয়া হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এলপিজির পরবর্তী দামের পরিবর্তন।