স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে ওই কিশোরীকে মুহতামিমের সঙ্গে দেখতে পান কয়েকজন যুবক। তাঁদের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাঁরা মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মুহতামিম ও কিশোরী দুজন দুই দিকে চলে যান বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। পরে ঘটনাস্থলে কনডম পড়ে থাকতে দেখেছেন বলেও জানান তাঁরা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীকে ঘিরে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা কী, সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য কী—এসব বিষয় এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
খবর পেয়ে বারহাট্টা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে মাদ্রাসার সভাপতি সাইদুল ইসলাম ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন। অভিযুক্ত মুহতামিমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। সাইদুল ইসলাম বলেন, বৈঠকের মাধ্যমে মুহতামিমকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
অন্যদিকে সাহতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাজু ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি তদন্তের ক্ষেত্রে কিশোরীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, তার বক্তব্য সংবেদনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযুক্ত মুহতামিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল বা তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।