বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১ ও এসআরবি-৮-এর সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার মাজহারুল পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানার চারখালী এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ একটি মাদক মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয় শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থেকে নামেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের কথা হচ্ছিল।
এর মধ্যেই দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাঁদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম (৪৫) নিহত হন। ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কালীগঞ্জ থানার এসআই মিজানুর রহমান (৩৯) মারা যান। অন্য আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই ঘটনায় একজন রাজনৈতিক নেতা ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ট্রাক উঠে যাওয়ার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাকটি কী পরিস্থিতিতে তাঁদের চাপা দিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ট্রাকচালক মাজহারুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পর তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু হয়।
এসআরবি জানায়, মামলাটির ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পিরোজপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মিডিয়া) শাহ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মামলার পরবর্তী তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, ট্রাকচালকের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।