লেবাননে গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১২ হাজার ৩১৮ জন। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হতাহতের এই তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে চলা হামলা ও সংঘাতের কারণে লেবাননে প্রাণহানির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। আহতের সংখ্যাও ১২ হাজারের বেশি। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় হতাহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বছরের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি এখনো নাজুক। ফলে সেখানে নতুন করে সংঘাত বাড়ার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
ইউনিফিলের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননের আকাশসীমা ও আশপাশের এলাকায় ১ হাজার ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত ও রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করেছে শান্তিরক্ষী বাহিনী।
এক সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি দক্ষিণ লেবাননের চলমান অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরছে। যদিও বছরের প্রথম দিকের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা কমেছে বলে জানিয়েছে ইউনিফিল, তবু সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সংঘাতের আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করা।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব এবং ইউনিফিলের পর্যবেক্ষণ—দুটি তথ্যই দেশটির চলমান সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। একদিকে বাড়ছে হতাহত মানুষের সংখ্যা, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
তবে নতুন করে সংঘাত কতটা বিস্তৃত হবে বা হতাহতের সংখ্যা আরও কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো পূর্বাভাস দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ লেবাননে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী।