জামালপুরের মাদারগঞ্জে একটি সেচ পাম্পের ঘর থেকে রুপসী আক্তার (২১) নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার চরপাকেরদহ এলাকায় আব্দুল হান্নানের সেচ পাম্পের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে পুলিশ।
নিহত রুপসী আক্তার মাদারগঞ্জ উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকার সাইরুদ্দিন শেখের মেয়ে। সকালে স্থানীয় এক কৃষক রোপা আমন ধানের জমিতে পানি দেওয়ার জন্য সেচ পাম্প চালু করতে ওই ঘরে যান। সেখানে একটি চৌকির ওপর তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। পরে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ সকাল ১১টার দিকে সেচ পাম্পের ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা পাশা জানান, সকালে তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তাঁর ভাষ্য, মরদেহের মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার মতো দেখা যাচ্ছিল। পাশেই মাটিতে একটি ওড়না পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে কীভাবে তরুণীর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, রাতে ওই তরুণীকে সেখানে এনে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের বাবা সাইরুদ্দিন শেখ জানান, কাজের কারণে তিনি জামালপুর শহরে থাকেন। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে ফিরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে খুঁজেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁকে পাওয়া যায়নি। রাত হয়ে যাওয়ায় পরে আর খোঁজাখুঁজি না করে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার সকালে সেচ পাম্পের ঘর থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। কারও ওপর তাঁর সন্দেহ নেই বলেও জানান তিনি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায় বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পরিবার ও স্থানীয়রা।