গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর বায়েজিদ (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার চরবাঘুয়া এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। শিশুটির মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বায়েজিদ কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে খেলতে বের হওয়ার পর বায়েজিদ নিখোঁজ হয়। নির্ধারিত সময়ের পরও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কাপাসিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পর থেকে স্বজনেরা শিশুটিকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিলেন। দুই দিন পর শনিবার সকালে নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পান তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৬টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে লোকজন জড়ো হন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করলে সেটি বায়েজিদের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান বলেন, শনিবার সকালে চরবাঘুয়া এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে একটি শিশুর মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নদীতে গোসল করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হতে পারে। উদ্ধারকালে শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মরদেহটির ময়নাতদন্ত করা হয়নি। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদের মা-বাবা দুজনই শ্রীপুরের মাস্টারবাড়ি এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। চাকরির কারণে তারা সেখানে থাকলেও পাঁচ বছরের বায়েজিদ থাকত চরবাঘুয়া এলাকায় তার দাদা-দাদির সঙ্গে।
শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সী শিশুর এভাবে প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও মর্মাহত। নদী ও জলাশয়ের কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য এ ধরনের ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে।