• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন

নেপাল–তিব্বতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ৬২৩, নিখোঁজ ২,৪৮২

newsline24 / ১৬ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
নেপাল–তিব্বতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ৬২৩, নিখোঁজ ২,৪৮২
নেপাল–তিব্বতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ৬২৩, নিখোঁজ ২,৪৮২

নেপাল–চীন সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৮২ জন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে সাতজন নিহত হয়েছেন এবং ৫৫৮ জন এখনো নিখোঁজ। দুই দেশ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৩ জনে।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয়ের নেপাল–চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি ও পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষ। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে নেপাল ও চীনের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংয়েও। বন্যা ও ভূমিধসে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধারকারী দলকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন্যার পর পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষ জমে একটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে পানি উপচে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের এলাকায় নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে একপর্যায়ে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হলেও পরে তা আবার শুরু করা হয়।

নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং নতুন করে পানির স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সময় লাগছে।

নিখোঁজ ভারতীয়দের নিয়েও উদ্বেগ

দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে ভারতীয় নাগরিকদের ওপরও। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ২১ জন ভারতীয় কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন। এ ছাড়া নেপালের ত্রিশূলী ওয়ান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে।

চীনের অংশে আটকে পড়া আরও ৯৬ জন ভারতীয় স্থলপথে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। তবে প্রায় ৩২০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও চীনের দুই অঞ্চলের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাবার, নিরাপদ পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষের কারণে তৈরি নতুন জলাধার ও সম্ভাব্য পানির স্রোতের ঝুঁকিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category