• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

নড়াইলে মাদকসহ জামাই-শাশুড়ি গ্রেপ্তার, কারাগারে

newsline24 / ৫৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নড়াইলে মাদকসহ জামাই-শাশুড়ি গ্রেপ্তার, কারাগারে
নড়াইলে মাদকসহ জামাই-শাশুড়ি গ্রেপ্তার, কারাগারে

নড়াইলের লোহাগড়ায় এক কেজি গাঁজা ও ১০১টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জামাই-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে দুজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন পাঁচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের স্ত্রী সীমা বেগম (৩৮) এবং তাঁর মেয়ের জামাই রাসেল শেখ (২১)। রাসেল উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। ডিএনসি জানিয়েছে, সীমার স্বামী ইউসুফ শেখ বর্তমানে একটি মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

ডিএনসি নড়াইলের উপপরিচালক গোলক মজুমদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে পাঁচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি গাঁজা ও ১০১টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় সীমা বেগম ও তাঁর মেয়ের জামাই রাসেল শেখকে আটক করা হয়।

অভিযানের পর উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি লোহাগড়া থানায় করা হয়। পরে মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ডিএনসি কর্মকর্তা গোলক মজুমদারের দাবি, গ্রেপ্তার সীমার স্বামী ইউসুফ শেখ লোহাগড়া উপজেলার অন্যতম মাদককারবারি হিসেবে পরিচিত। তিনি মাদক মামলায় কারাগারে থাকার পর তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের জামাই মাদককারবারে যুক্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিএনসির এই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমা ও রাসেল প্রায় ছয় বছর ধরে মাদককারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

একই অভিযানে এক কেজি গাঁজা ও ১০১টি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায়ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একটি বসতবাড়ি থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা ও সরবরাহ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক গোলক মজুমদার জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

লোহাগড়ার এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস, সরবরাহের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং উদ্ধার করা মাদক কোথা থেকে এসেছে—এসব বিষয় সামনে আসতে পারে। তবে তদন্তের ফল ও আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category