• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা

newsline24 / ১৩ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা

ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। পরপর এসব সামরিক পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। ওয়াশিংটন যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে তেহরানও পাল্টা আঘাতের পথে যেতে পারে। এতে দুই দেশের সরাসরি সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনা আজোদি আলজাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, সংঘাত আরও বাড়বে কি না, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে তেহরানের সামনে পাল্টা জবাব দেওয়া ছাড়া খুব বেশি বিকল্প থাকবে না।

আজোদি সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ইরান আবার সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হতে পারে। তখন বর্তমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রিত পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

লারাক দ্বীপে কী ঘটেছে

লারাক দ্বীপ ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মাইন পাতা সক্ষমতা থেকে ‘আসন্ন হুমকি’ তৈরি হয়েছিল। সেই হুমকি মোকাবিলায় লারাক দ্বীপে সীমিত ও নির্ভুল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পক্ষ।

অন্যদিকে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানকে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলার জবাব দিতেই জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমন আশঙ্কাই এখন বেশি আলোচিত হচ্ছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে সক্রিয়।

ফলে একটি পক্ষ নতুন করে হামলা চালালে অন্য পক্ষের পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুধু মূল ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ না থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমান অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র লারাক দ্বীপে হামলার পর আরও সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না।

ওয়াশিংটন যদি নতুন করে ইরানে হামলা চালায়, তেহরানও পাল্টা আঘাতের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তখন হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়ে সংঘাতের পরিধি দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি থাকবে। আর সেই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সামরিক লড়াইয়ে গড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category