জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। ত্রুটির প্রকৃত কারণ, এর ধরন এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে নেওয়া কারিগরি পদক্ষেপ যাচাই করতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক এয়ার কমোডর মো. নিয়ামুল কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিমানের চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং)-কে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন), ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি) এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক)।
কমিটিকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইটে দেখা দেওয়া কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন শনাক্ত করা, উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা পর্যালোচনা করা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম যথাযথ ছিল কি না, তা যাচাই করা।
এ ছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় কতটা বিলম্ব হয়েছে, যাত্রীদের কী ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে এবং ঘটনাটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে।
বিমানের তদন্ত কমিটি গঠনের আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপানের টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটি ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উড়োজাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইট হওয়ায় ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের কারিগরি সক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়গুলো জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
বিমান চলাচলে যেকোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে ত্রুটির কারণ শনাক্ত না করে উড্ডয়ন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, ত্রুটি নিরসন এবং উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে নজর থাকবে। চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা পড়ার পর ফ্লাইটটিতে ঠিক কী ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।