খুলনা নগরীতে প্রায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে পূর্ব বানিয়াখামারে তুষার নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকায় খুশি বেগম (২৪) নামের এক নারীকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মায়ের সামনে খুশিকে হত্যা
সন্ধ্যা ৭টার দিকে জিন্নাহপাড়ার বউবাজার এলাকার ৭ নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খুশি স্থানীয় বাসিন্দা খোকনের মেয়ে। তাঁর স্বামী সুমন হাওলাদার ওরফে ব্লেড বাবু। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
খুশির মা জানান, বাজার করে মেয়েকে নিয়ে রিকশায় বাসার সামনে পৌঁছানোর পর দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে তাঁদের কাছে আসেন। তাঁদের একজন নিজেকে মিরাজ পরিচয় দিয়ে খুশির কাছে তাঁর স্বামী বাবুর বিষয়ে জানতে চান। খুশি কিছু জানেন না বলার পরই একজন তাঁকে গুলি করেন। পরে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আবার গুলি করা হয়। অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপান।
হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় খুশিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
ভোরে গুলিতে নিহত তুষার
এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব বানিয়াখামারের খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে গুলিতে তুষার নিহত হন। তাঁর পিঠে গুলি লাগে।
খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও কাছাকাছি এলাকা থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করা হয়।
খুলনা থানার এসআই শাহ আলম জানান, তুষার কারাগারে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওসি লোকমান হোসেন রিপন জানান, হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তুষারের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা ছিল।
একই দিনে দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরীতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক ঘটনাগুলোর পেছনের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।