সৌদি আরব হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। সোমবার দেশটির কয়েকটি এলাকায় ধারাবাহিক হামলায় ১৩ জন আহত হওয়ার পর মঙ্গলবার রিয়াদের পক্ষ থেকে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘ইয়েমেনে বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা জোট’ এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক লোকজনসহ মোট ১৩ জন আহত হন। হামলার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হুতিদের ‘শত্রুতামূলক ও উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ড’ প্রতিহত করতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের ওপর যেকোনো হামলার জবাব দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। হুতিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অন্যদিকে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে দেশটির বিভিন্ন তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে হুতিদের বক্তব্য, সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়াতেই তারা পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। হুতি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ দাবি করেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে হামলা চালানো বন্ধ না করা পর্যন্ত তাদের পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
এর আগে হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সৌদি আরব ইয়েমেনে ৫০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। যদিও এসব হামলা ও হতাহতের বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ। গত সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ বাব এল-মান্দেব দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও এ নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
ফলে বাব এল-মান্দেব ঘিরে সংঘাতের বিস্তার হলে শুধু ইয়েমেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের জন্যও হুতিদের এ ধরনের অগ্রগতি বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, হুতি হামলার জবাবে সৌদি আরবের সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি ইয়েমেন সংঘাতকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়লে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল—তিন ক্ষেত্রেই নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।