• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের সম্পদে ট্রাইব্যুনালের নজিরবিহীন আদেশ

newsline24 / ১৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের সম্পদে ট্রাইব্যুনালের নজিরবিহীন আদেশ
ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের সম্পদে ট্রাইব্যুনালের নজিরবিহীন আদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং শহীদদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। রায়ের সময় তাদের সবাই পলাতক ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অধীনে বাজেয়াপ্ত করা হবে। এসব সম্পদের ৫০ শতাংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী ব্যক্তি এবং শহীদদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা এ ধরনের কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পদ বণ্টনের কথা বলা হয়েছে।

তবে রায়ে সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে নিয়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রে আলাদা নির্দেশনা রয়েছে। তাদের দুজন ছাড়া বাকি পাঁচ আসামির সম্পদের ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের মধ্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রায়ের পর ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল কোনো মামলায় আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা এ ধরনের কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান কৌঁসুলি এটিকে প্রত্যাশিত রায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। ফলে রায়টি শুধু দণ্ড নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক প্রতিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে যুক্ত হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আসামিদের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আবেদন করা না হলে সরকারের পক্ষে রায় বাস্তবায়নে আইনগত বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রায়ের ফলে আসামিদের নামে থাকা সম্পদের একটি অংশ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তা বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তবে সম্পদ শনাক্ত, বাজেয়াপ্ত এবং পরবর্তী সময়ে তা নির্ধারিত ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে বণ্টনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category