• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

রবি-বোরো মৌসুমে চাহিদার চেয়ে ১৫.৮৪ লাখ টন বেশি সার

newsline24 / ৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবি-বোরো মৌসুমে চাহিদার চেয়ে ১৫.৮৪ লাখ টন বেশি সার
রবি-বোরো মৌসুমে চাহিদার চেয়ে ১৫.৮৪ লাখ টন বেশি সার

দেশে রবি ও বোরো মৌসুমের কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি সার সরবরাহের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার পৌঁছে দিতে ৬৪ জেলার চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার ১৪ সেপ্টেম্বরের চিঠি এবং সংযুক্ত জেলাওয়ারি বরাদ্দ তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নথিতে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের সারের চাহিদা ও বরাদ্দের বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহের পরিমাণ ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি সার সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে।

অক্টোবরের চাহিদায় শতভাগ বরাদ্দ

আগামী অক্টোবর মাসে ৬৪ জেলার জন্য টিএসপি সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন। এর পুরো পরিমাণই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ডিএপি সারের চাহিদা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ১ হাজার টন এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ টন বরাদ্দ করেছে। ফলে এ ক্ষেত্রেও চাহিদার সমপরিমাণ সার বরাদ্দ নিশ্চিত হয়েছে।

এ ছাড়া অক্টোবর মাসে এমওপি সারের চাহিদা ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন। জেলাভিত্তিক বরাদ্দেও একই পরিমাণ সার রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে অক্টোবর মাসে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন। বিপরীতে সমপরিমাণ বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মজুতের পাশাপাশি চলছে আমদানি

শুধু বর্তমান মজুতের ওপর নির্ভর না করে সার সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন করে আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করে।

এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে আগস্ট মাসেও বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এসব আমদানির মধ্যে সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে এমওপি সংগ্রহের প্রস্তাব ছিল।

৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন ধরনের সারের উল্লেখযোগ্য মজুত ছিল। ইউরিয়া ছিল ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন।

এর বাইরে পরিবহনের পথেও ছিল বিপুল পরিমাণ সার। এর মধ্যে টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন।

৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল

সার ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের নজরদারি বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি গঠনের পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কাঠামোর মাধ্যমে সার সরবরাহ, পরিবহন ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সার বরাদ্দের পরিবর্তে প্রতিটি জেলার প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় আলাদা পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে কোন এলাকায় কখন কত সার প্রয়োজন, তার সঙ্গে সরবরাহ পরিকল্পনার সমন্বয় করা সহজ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোন এলাকায় কত সার প্রয়োজন, কখন প্রয়োজন এবং কীভাবে তা কৃষকের কাছে পৌঁছাবে—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রমও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোথাও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবরের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, কিছু এলাকায় বিতরণে অনিয়মের কারণে সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে।

সার ব্যবস্থাপনায় সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে, প্রয়োজনীয় পরিমাণে এবং ন্যায্য মূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া—জানিয়ে সচিব বলেন, আমদানি থেকে শুরু করে মজুত, পরিবহন, জেলাভিত্তিক বরাদ্দ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সার। তাই উৎপাদন মৌসুমের আগেই চাহিদা নির্ধারণ, পর্যাপ্ত মজুত, আগাম আমদানি এবং জেলাভিত্তিক বরাদ্দের সমন্বিত পরিকল্পনা কৃষকের জন্য সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অক্টোবরের জন্য নন-ইউরিয়া সারের শতভাগ চাহিদা পূরণ করে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগে মৌসুমের শুরুতে সার সংকটের আশঙ্কা কমানোর চেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category