জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের প্রয়োজনেই ঘোষিত আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
লংমার্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। পাশাপাশি পানির সংকটে থাকা মানুষের দুর্ভোগ দূর করা, রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিও রয়েছে তাঁদের কর্মসূচিতে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথাও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও লংমার্চের অন্যতম বিষয়। একই সঙ্গে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও তাঁরা অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেননি; বরং জনগণের দাবি নিয়েই কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁর বক্তব্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার মতো নাগরিক সমস্যাগুলো গুরুত্ব পায়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। শফিকুর রহমানের দাবি, গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বললেও সেই রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণকে অপমান করেছে। সেই রায়ের বাস্তবায়নের দাবিতেও তাঁরা রাজপথে নেমেছেন বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে বিএনপিকে বাধ্য হতে হবে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আজকে আট দফা দাবিতে নেমেছি। জনগণের জন্য, জনগণের প্রয়োজনে আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে।’ তিনি আন্দোলনে জনগণের সমর্থন চেয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিনের লংমার্চের কর্মসূচিতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো সামনে রাখা হয়েছে।
রাজধানী থেকে যাত্রা শুরুর পর লংমার্চটি গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে পথসভা করে। এরপর টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। সবশেষে রংপুরে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। গাজীপুরের পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করে।