ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচির পাশে থাকবেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, লংমার্চের সময় সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাবেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গোলাম পরওয়ার জানান, লংমার্চের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, আগের লংমার্চের তুলনায় এবারের কর্মসূচিতে মানুষের অংশগ্রহণ কয়েক গুণ বাড়বে।
লংমার্চের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং চাঁদাবাজি বন্ধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এসব দাবিকে সামনে রেখে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন।
কর্মসূচির বিষয়ে গোলাম পরওয়ার নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, লংমার্চকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করা হবে এবং কোনো ধরনের ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতার চিন্তা তাদের নেই। প্রশাসন, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং লংমার্চের পথে থাকা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সকাল ৮টার দিকে গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জলফই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীসহ কয়েকটি স্থানে পথসভা আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। শেষ পর্যায়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্স টিমের পাশাপাশি মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক বিভাগের সদস্যদেরও বহরে রাখার কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
দীর্ঘ পথ হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পথে আলাদা করে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হবে না।
দীর্ঘ এই কর্মসূচির কারণে সড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হতে পারে—এ বিষয়টিও স্বীকার করেছেন গোলাম পরওয়ার। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ঘোষিত দাবিগুলোকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনা এবং জনগণের সমর্থন তুলে ধরা। তবে কর্মসূচিকে ঘিরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে যতটা সম্ভব কম বিঘ্ন ঘটানোই এখন আয়োজকদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।