জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্দেশ্যে সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে কাউখালী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত কার্যক্রম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। বক্তব্য শুরু হওয়ার প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই উপজেলা মিলনায়তনের বিদ্যুৎ সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রায় পুরো বক্তব্যের সময়ই মিলনায়তনে বিদ্যুৎ ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আনুমানিক ৩০ সেকেন্ড পর আবার বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে আসে। বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দেয়, কারণ অনুষ্ঠানস্থলে বিদ্যুৎ না থাকলেও ওই সময় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উপস্থিতদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানটির প্রস্তুতি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি আগে থেকেই সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনে কোনো গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইসুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সে বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন অনুষ্ঠানস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাফ হোসেনও ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অনুষ্ঠানস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।