ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর শাখা থেকে ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের পদ্মার একটি শাখা নদীতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
লক্ষ্মীকুন্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহত রাকিবুজ্জামান রকি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কবিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার কাতলাগাড়ীর গড়াই নদী থেকে পাবনার রূপপুরের উদ্দেশ্যে একটি ট্রলারে করে ভ্রমণে বের হন শতাধিক যাত্রী। দিনভর ভ্রমণ শেষে রাতে তারা ফেরার পথে পদ্মা নদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছান।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রলারটি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫ নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। আকস্মিক ওই দুর্ঘটনায় রাকিবুজ্জামান রকিসহ কয়েকজন যাত্রী নদীতে ছিটকে পড়েন। এ ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পরপরই নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে মো. লিটন (৩৮) ও মো. ওয়াহাব (৪৫) নামের দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে রাকিবুজ্জামান রকির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
দুই দিন ধরে নদীতে খোঁজ চালানোর পর রোববার সকালে পদ্মার শাখা নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ থাকা তিনজনের মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পরও রাকিবুজ্জামানের সন্ধান না মেলায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর পরিবার ও স্বজনদের কাছে পৌঁছালে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।