যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান আর দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না। একই সঙ্গে তেহরান আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, ইরান বর্তমানে এমন একটি অবস্থায় রয়েছে, যেখানে দেশটির পক্ষে আর বেশি দিন সংঘাত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের জন্য তেহরান মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য, ইরান এমন কিছু তুলনামূলক ‘দুর্বল’ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়, যারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে।
তবে ট্রাম্পের এমন আশাবাদ সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে সংঘাত কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং গত সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুধবার ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার পর তারা ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত তার প্রভাব পড়ে। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
নতুন করে হামলা-পাল্টাহামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।
ইরান যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরই মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন তাই তাঁর প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে জনগণের রাজনৈতিক মনোভাব যাচাইয়ের একটি বড় উপলক্ষ। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলে প্রেসিডেন্টের নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের সক্ষমতাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প অবশ্য যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনের পরপরই সংঘাতের অবসান ঘটলে জ্বালানি বাজারেও স্বস্তি ফিরবে।
তবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, আলোচনা হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানানো হলেও বাস্তবে সংঘাত থামাতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ইরান তাতে কীভাবে সাড়া দেবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।