• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

আড়াই মাস আগে ভাতিজা, এবার একই কায়দায় চাচাকে হত্যা

newsline24 / ১৯ Time View
Update : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আড়াই মাস আগে ভাতিজা, এবার একই কায়দায় চাচাকে হত্যা
আড়াই মাস আগে ভাতিজা, এবার একই কায়দায় চাচাকে হত্যা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবিকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় রবির সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

নিহত রবিউল ইসলাম শেখ উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। একই এলাকার ২৪ বছর বয়সী সুমন শেখের চাচা ছিলেন তিনি। গত ২৬ জুন সুমনকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মাসুদুজ্জামান ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে চায়ের দোকান বন্ধ করে আরও তিনজনের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন রবি। তারা কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রবিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হামলায় আহত তিনজন হলেন মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। তাদের কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে মোক্তার বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চার বছরের বিরোধে একের পর এক সংঘর্ষ

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড়ভাগ গ্রামে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই বিরোধে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং মামলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৬ জুন সন্ধ্যায় বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সুমন শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

সুমন ছিলেন রবির ভাই আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সুমন হত্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ওই হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। পরে সুমন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

রবির স্বজনদের অভিযোগ, সুমন হত্যার পর থেকেই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। পুরোনো বিরোধের জের না মিটতেই এবার সুমনের চাচা রবিউল ইসলামও হামলার শিকার হলেন।

তবে সুমন হত্যা মামলায় জামিনে থাকা কোনো ব্যক্তি রবিউল ইসলাম হত্যার সঙ্গে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

হামলাকারীদের শনাক্তে পুলিশ

সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক মাসের ব্যবধানে চাচা-ভাতিজা দুজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category