বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজের বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশে সাবেক এই সেনাপ্রধানকে নির্ধারিত দিনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। রোববার দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাত স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য শোনা ও গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধান এবং পরবর্তী প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য দুদক একটি দুই সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। এতে পরিচালক মো. আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মেল হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের কাছে নিজের বক্তব্য দিতে হবে সাবেক সেনাপ্রধানকে। তার বক্তব্য ও অনুসন্ধানে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে দুদকের নোটিশে উল্লিখিত অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন। অভিযোগের বিষয়ে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য বা তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য নোটিশে দেওয়া হয়নি। ফলে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
দুদক সাধারণত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক যাচাই ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাবেক সেনাপ্রধানকে নির্ধারিত তারিখে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এখন ১৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত হয়ে কী বক্তব্য দেন এবং অনুসন্ধান শেষে দুদক কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।