• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

সাফারি পার্কে ময়লা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, আহত ৮

newsline24 / ২০ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
সাফারি পার্কে ময়লা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, আহত ৮
সাফারি পার্কে ময়লা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, আহত ৮

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থী বাসের সিটে ময়লা পরিষ্কার করতে বলাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ আটজন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পার্কের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। একই ঘটনায় রাতে পার্ক কর্তৃপক্ষও থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর বারিধারা-নতুন বাজার এলাকার সালমা হোসেন (৪৫), তাঁর দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭) ও জারিফ (১৫), এবং তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক রাসেল (২৫)। অন্য আহতরা হলেন মানিক মিয়া (৩৭), আরমান (৪৫), দোয়েল হক (৩৫) ও আশিক (৩৫)।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

ভুক্তভোগী সালমা হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কে যান। পরে তাঁরা কোর সাফারির দর্শনার্থী বাসে ওঠেন। বাসের একটি সিটে ময়লা দেখতে পেয়ে তিনি দায়িত্বে থাকা প্রহরী ফরহাদকে সেটি পরিষ্কার করে দিতে বলেন।

সালমার অভিযোগ, সিট পরিষ্কার করার দায়িত্ব তাঁর নয়—এমন কথা বলে ফরহাদ তাঁর ছেলের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সালমা জানান, কোর সাফারি ঘুরে বাসটি ফিরে এলেও তাঁদের সেখানে নামিয়ে না দিয়ে সরাসরি সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রহরী ফরহাদসহ আরও কয়েকজন কর্মী তাঁর দুই ছেলে ও গাড়িচালক রাসেলকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছেলেদের রক্ষা করতে গেলে তাঁকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন সালমা। একই সময় তাঁর তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, তাঁর ও ছেলের মুঠোফোন এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

পার্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, দর্শনার্থী বাসের সিটে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা নিয়ে দায়িত্বে থাকা প্রহরী ফরহাদের সঙ্গে দর্শনার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নারী দর্শনার্থীর ছেলের সঙ্গে ওই প্রহরীর হাতাহাতি হয়।

তিনি জানান, বাসের চালক পরিদর্শন শেষে দর্শনার্থীদের নিয়ে পার্কের অফিসের নিচে আসেন। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে পার্কের দুজন কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, মুমিন নামে তাঁদের এক কর্মী হামলায় আহত হয়েছেন। তাঁকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তাঁর ভাষ্য, কর্মী আহত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বাসে থাকা পর্যটকদের পার্কের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ঘটনার পর বন বিভাগের কর্মী ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

দুই পক্ষের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পরে রাতে পার্ক কর্তৃপক্ষও থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে।

ওসি বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর পার্কের দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও কর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কর্মী আহত হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে। ফলে ময়লা পরিষ্কার করার মতো একটি ছোট বিষয় কীভাবে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রূপ নিল এবং অভিযোগ করা হারানো মালামালের বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া যায়—তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category